বিশ্বজুড়ে বিদ্যুচ্চালিত (ইভি) ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ি বিক্রির প্রবৃদ্ধি আগস্টে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেড়েছে। তবে গবেষণা প্রতিষ্ঠান রো মোশন জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারির পর এটিই সবচেয়ে ধীরগতির। জুলাইয়ে এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২১ শতাংশ। খবর রয়টার্স।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে বিশ্বব্যাপী ১৭ লাখ ইভি ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে চীন একাই ১১ লাখ গাড়ি বিক্রি করেছে। দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় গাড়ির বাজার ও বৈশ্বিক ইভি বিক্রির অর্ধেকের বেশি তাদের দখলে। তবে গত মাসে চীনে প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ৬ শতাংশে, যেখানে বছরের প্রথমার্ধে মাসিক গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ৩৬ শতাংশ। চীনের সামগ্রিক গাড়ি বিক্রির প্রবৃদ্ধিও সাত মাসের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চতুর্থ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) চীনের ইভি বিক্রি আবারো বাড়তে পারে। তখন ভর্তুকি কর্মসূচির জন্য নতুন তহবিল বরাদ্দ হবে এবং বছরের শেষ দিকে মৌসুমি চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় গাড়ি বিক্রির পরিমাণও বৃদ্ধি পায়। তবে ইভির বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা তীব্র হচ্ছে। চীনের শীর্ষ ইভি নির্মাতা বিওয়াইডি গত সপ্তাহে ২০২৫ সালের বৈশ্বিক বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা সর্বোচ্চ ১৬ শতাংশ কমিয়েছে। অন্যদিকে জিলি, এক্সপেং ও নিয়োর মতো স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বীরা আগস্টে নিজেদের সেরা মাস কাটিয়েছে, যা বাজারে তাদের অংশীদারত্ব বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
চীনের দুর্বলতা আংশিকভাবে পুষিয়ে দিয়েছে অন্যান্য বাজারের প্রবৃদ্ধি। ইউরোপে আগস্টে ইভি বিক্রি বেড়েছে ৪৮ শতাংশ, যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ৮৩ হাজার ইউনিটে। উত্তর আমেরিকায় বিক্রি ১৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১ হাজার ২৫৫ ইউনিটে। অন্য অঞ্চলে বিক্রি ৫৬ শতাংশ পৌঁছেছে ১ লাখ ৪৪ হাজার ২৮০ ইউনিটের বেশি।
রো মোশনের তথ্য ব্যবস্থাপক চার্লস লেস্টার বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে করছাড় শিগগিরই শেষ হয়ে যাওয়ার আগে চাহিদা বাড়ছে। আগস্টে রেকর্ড বিক্রি হয়েছে এবং সেপ্টেম্বরেও তা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে এরপর বড় ধরনের পতন দেখা যেতে পারে।’
তিনি জানান, ইভি বাজারে বিওয়াইডি এখনো সবচেয়ে বেশি অংশীদারত্ব ধরে রেখেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানিগুলোর বিক্রি দ্রুত বাড়ছে। এতে বিওয়াইডির ওপর চাপ তৈরি হয়েছে এবং তারা বাজারে তাদের শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, আগস্টে বৈশ্বিক ইভি বাজার প্রবৃদ্ধি বজায় রাখলেও এর হার কমে এসেছে। ফলে আগামী মাসগুলোয় চাহিদার গতি ও ভর্তুকিনির্ভর সমর্থন বৈশ্বিক ইভি খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।